নারী সম্মন্ধে ভগবান মনু ও পয়গাম্বর মুহাম্মদের (দঃ) ধারনায় মুলগত কোন পার্থক্য নেই। মনু ছিলেন শুধুই একজন ধর্ম সংস্কারক, নারী বিষয়ে তাঁর ধারণা ছিল একমাত্ৰীক, পক্ষান্তরে মুহাম্মদ (দঃ) ছিলেন একজন সৈনিক, রাজনীতিবিদ এবং সবোপরি একজন রাষ্ট্রনায়ক। তাই সব বিষয়েই মুহাম্মদের (দঃ) ধারণা ছিল বহুমাত্ৰীক। সে জন্যেই মুহাম্মদের (দঃ) কথায় ও হাদিস সমুহতে স্ববিরােধী বক্তব্য প্রকাশ পায়, একটা হাদিস আরেকটা হাদিসকে সমর্থন করেনা বিধায় কিছু হাদিসকে দুর্বল (জয়ীফ) আর কিছু হাদিকে সবল বলা হয়ে থাকে। স্থান, কাল, পাত্র ভেদে একজন রাষ্ট্রনায়কের এরকম পদক্ষেপ নেয়াটাই স্বাভাবিক। নরী সম্মন্ধে ভগবান মনু বলেন- নৈতা রূপং পরীক্ষান্ত নাসাং বয়সি সংস্থিতি সুরূপম্বা বিরূপম্বা পুমানিত্যব ভুঞ্জতে। (মনুসংহিতা-৯অঃ ১৪ শ্লোক)
অর্থাৎ- স্ত্রীরা সৌন্দর্য অন্বেষণ করে না, যুব বা বৃদ্ধ ইহা ও দেখেনা, সুরূপ বা কুরূপ হউক, পুরুষ পাইলেই উহার সহিত সঙ্গম করিতে চায়।
- নির্দয়ত্বং, তথা-দ্রোহং কুটিলত্বং বিশেষতঃ অশৌচং নির্ভূনতৃঞ্চস্ত্রীনাং দোষা স্বভাবজাঃ। (স্কন্ধ-পুরাণ, নাগর খন্ডম। শ্লোক ৬০ পৃঃ ৪১৫৩) অর্থাৎ- নির্দয়ত্ব, দ্রোহ, কুটিলতা, অশৌচ, ও নির্ঘণত্ব এই সমস্ত দোষ নারী জাতির স্বভাবজাত।
আর অশৌচদের ব্যাপারে হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে‘একবার ই-দুল ফিতরের দিনে কয়েকজন মহিলা নবীজী মুহাম্মদের (দঃ) পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। নবীজী তাদের উদ্দেশ্যে বলেন “হে রমনীগন, তােমরা বেশীবেশী করে দান-খয়রাত করাে, কারণ আমি মে-রাজের সময় জাহানাম ভ্রমনকালে দেখেছি দোজখের বাসিন্দাদের মধ্যে বেশীর ভাগই নারী। একজন রমনী জিজ্ঞেস করেন, হে আল্লাহর নবী, কেন এমনটি হবে? নবীজী উত্তর দেন “তােমরা নির্দয়, দ্রোহী। অভিশাপ করা ও স্বামীর অবাধ্যতা তােমাদের স্বভাব। ধর্মচর্চায় ও বুদ্ধিমত্ত্বায় তােমাদের মত নিবোধ, অক্ষম, অজ্ঞান আর হয়না। তােমাদের কুটিলতায় একজন সৎ পুরুষ চোখের পলকে অসৎ হতে পারে। একজন মহিলা জিজ্ঞেস করেন- নবীজী আমরা ধর্মচর্চায় ও বুদ্ধিমত্তায় নিবোধ, অক্ষম, অজ্ঞান, তার প্রমান কি? নবীজী উত্তর দেন ‘আল্লাহপাক সাক্ষীর ব্যাপারে তােমাদের দুইজনকে এক পুরুষের সমান করেছেন, এটা তােমাদের নির্বুদ্ধিতা ও অজ্ঞানতার প্রমান। তােমাদের মাসিক রক্তস্রাবের কারণে নামাজ পড়তে পারােনা রােজাও রাখতে পারােনা, এটাকি তােমাদের অক্ষমতা নয়? (আবু-সাঈদ আল্-কোদরী, সহীহ বােখারী শরীফ ৩০১) নবী মুহাম্মদ (দঃ) অশুচী নারীদের ব্যাপারে অন্য হাদীসে বলেন“তােমাদের মাসিক রক্তস্রাব বিবি হাওয়া (আঃ) কর্তৃক অপরাধের শাস্তি সৃরূপ। মুহাম্মদ (দঃ) ঋতুস্রাবকালে স্ত্রালােকদিগকে অপবিত্র, না-পাক ঘােষনা দিয়ে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ স্পর্শ করতে এবং আনুষ্ঠানিক ভাবে নামাজ-রােজা করতে নিষেধ করেছেন কিন্তু দোয়া দরুদ পড়তে বা ব্যবহারীক কোন বস্তু বা সামী সেবা কিংবা তাকে স্পর্শ করতে নিষেধ করেন নি। এ ব্যাপারে ভগবান মনু বলেন“নাস্তি স্ত্রীনাং ক্রিয়া মত্রৈরিতি ধর্মো ব্যবস্থিত ।
| নিরিন্দ্রিয়া হ্যমত্ৰশ্চ স্ক্রিয়াে ইতমিতি স্থিতিঃ।” অর্থাৎ- ব্রাহ্মণ সহ সকল সম্প্রদায়ের মহিলাদের জন্য বেদ-স্মৃতি পাঠ, মন্ত্র উচ্চারণ, পুজা, অর্চনা প্রভৃতিতে কোন অধিকার নেই। নারীরা কেবলই মিথ্যা পদার্থ।
|- পৌংশ্চল্যাঞ্চল চিত্তচ্চ নৈঃ মেহ্যাচ্চ স্বভাবতঃ
রক্ষাতাং যত্ম তােহলীহ ভর্তম্বেতা বিকুবর্তে। -পুরুষ দর্শন মাত্র স্ত্রীদের পুরুষের সাথে সঙ্গম করার ইচ্ছা জাগে, এবং চিত্তের স্থিতার অভাবে স্বভাবতঃ স্নেহশুন্যতা প্রযুক্ত স্বামী কর্তৃক রক্ষিতা হলেও স্ত্রীলােক ব্যভিচার প্রভৃতি কুক্কীয়া করে। ভগবান মনুর এই স্বর্গীয়-বাণী স্ত্রী, মা, বােন সকলের প্রতি প্রযােজ্য। মায়ের কথা উল্লেখ করে মনু আরাে বলেন
- দাসীং হত্যাতু লিঙ্গস্য নরকাল নিবৰ্ত্ততে-কামার্তে ।
মাতরং গচ্ছেন গচ্ছেচ্ছিব চেটিকাম। অর্থাৎ- শিবলিঙ্গ-সেবিকা দাসী হরণ করলে চিরকাল নরক ভােগ হয়ে থাকে। কামার্ত হয়ে বরং মাতৃগমন করবে তথাপি শিবলিঙ্গ সেবিকা গমন করবেনা।
মনু বিধবাদিগকে শিবের লিঙ্গ পুজা করার আদেশ দিয়েছেন, দ্বিতীয় বিবাহ নিষেধ করেছেন। মুহাম্মদ কামার্তে সাময়ীক, অস্থায়ী বিবাহের অনুমতি দিয়েছেন। অস্থায়ী বিবাহের ঘঠনাটা এরকম
মক্কা বিজয়ের বৎসরে যুদ্ধরত মুসলিম সৈনিকগন সুদীর্ঘ ১৩দিন নারী বিহীন রজনী অতিবাহিত করার পর নবীজীর কাছে এই বলে আবদার করলেন‘আল্লাহর রাসুল, কামজ্বালা আর সয়না, একটা বিহিত করুন৷ দয়াল নবীজী দুটি শর্ত-সাপেক্ষ অস্থায়ী বিয়ের অনুমতি দিলেন। শর্তয় হলাে (এক) যে মেয়ের সাথে অস্থায়ী বিয়ে-চুক্তি হবে তাকে একটা কিছু (ফি, মূল্য, মােহরানা?) দিতে হবে, তা যতই নুন্যমানের হউক। (দুই) তিন রাতের বেশী ঐ মাহিলাকে রাখা যাবেনা। হজরত সাবরা জোহানী (রাঃ) বলেন, নবীজীর অনুমতি পেয়ে আমি বনী সােলায়েম গােত্রের আমার এক বন্ধুকে নিয়ে মেয়ের সন্ধানে বেরিয়ে পড়ি। আমরা বনু-আমীর বংশের একজন সুন্দরী যুবতীর সম্মুখীন হলাম যার ছিল উষ্ট্রীর মত লম্বা গলা। আমরা তাকে প্রস্তাব দিলাম। প্রস্তাবে মহিলাটি জানতে চাইলাে তাকে দেবার মত আমাদের কি আছে? আমরা বল্লাম, গায়ের চাদর ব্যতিত আমাদের কিছুই নেই। আমার বন্ধুর চাদর খানি আমার চাদরের চেয়ে অতীব সুন্দর ও মূল্যবান ছিল, তথাপি মেয়েটি আমাকেই গ্রহন করলাে। আমি তিনদিন মহিলার সাথে থাকার পর নবীজী আদেশ দিলেন অস্থায়ী বিয়ের যাদের সময় সীমা শেষ হয়ে গেছে তাদের মহিলাদিগকে ছেড়ে দেয়া হউক। (সহীহ মুসলিম শরীফ ৩২৫২)
আরবী ভাষায় এ প্রকার বিবাহকে মু-তা বলা হয়। হিন্দু ধর্মের এক প্রকার বিবাহের নাম নিয়ােগ প্রথা”। এই দুই ধর্মের দুই প্রকার বিবাহের প্রকারভেদ ও কার্যকারিতা প্রায় অভিন। পরবর্তিতে উভয় প্রথাই নিষিদ্ধ হয়ে যায়। যদিও ‘মাে-তা’ বা অস্থায়ী বিবাহের সাক্ষী ও প্রত্যক্ষ্যদর্শী অনেক সাহাবী ছিলেন তথাপি হজরত আলীর (রাঃ) যুগে মু-তা প্রথা অবৈধ হয়ে যায়। আর ‘নিয়ােগ প্রথা মহামুণি পরাশর নিষিদ্ধ করে দেন। “মাে-তা” বিবাহ ইসলাম ধর্মে তুমুল বিতর্ক সৃষ্টি করে। হজরত ইবনে আব্বাস, আব্দুল মালিক বিন- রা-বি, ইবনে আবু আমরাহ আল আনসারী, ওমর ইবনে আব্দুল আজিজ, ইয়াহিয়া বিন মালিক প্রমুখ সাহাবীগণ ‘মু-তা’ প্রথার পক্ষে সাক্ষ্য দিলেও হজরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে জোবায়ের ও হজরত আলী ইবনে আবু-তালিবের প্রচন্ড বিরােধিতার মুখে তা টিকে থাকতে পারেনি। এক পর্যায়ে হজরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে জোবায়ের, ইবনে আববাসকে উদ্দেশ্য করে বলেন-“আল্লাহর কসম আরেকবার এ কাজটি যে করবে আমি তাকে পাথর মেরে হত্যা করবাে’। এ বিষয়ে প্রশাের সম্মুখীন হজরত আলী (রাঃ) বলেন-“নবীজী খয়বরের যুদ্ধে অস্থায়ী বিবাহ নিষিদ্ধ করেছেন। নিয়ােগ-প্রথা’ বিষয়ে পরে আলােচনা হবে, তার আগে আরেকটি বিষয়ের ওপর আলােকপাত করা যাক।
অন্তবিষঃ ময়া-হােতা --বহির্ভাগে মনােরমাঃ
গুঞ্জাফল সমাকারা ঘঘাষিতঃ সর্বদৈবহি। (মনুসংহিতা) অর্থাৎ- নারী জাতি সর্বদা ই গুঞ্জাফলের ন্যায় বাইরে মনোেহর। নারীর অধরে পীযুষ আর হৃদয়ে হলাহল, এ জন্যই তাদের অধর (ঠোট) আসাদন এবং হৃদয়ে পীড়ন (প্রহার ) করা কর্তব্য।
নারীকে (প্রহার করা) পেটানাের জন্য নবী মুহাম্মদ (দঃ) অন্য ভাবে বলেছেন‘ওয়াল্লা-তি তাখা-ফু-না নুশু-জাহুলা ফাআ-
জিলা ওয়াহজুরু-হুনা ফি আমাদাজিয়ি ওয়াদরিবুহুন।” (সুরা নিসা,)। অর্থাৎ- নারী যদি পুরুষের অবাধ্য হয়, যদি নারী বিদ্রোহ করে, তাদেরকে প্রথমে বুঝাও, তাতে যদি কাজ না হয় তাহলে তােমার বিছানায় আসতে নিষেধ করাে, তাতে ও যদি বশ না মানে, তাদেরকে প্রহার করাে, পেটাও। নারীকে পেটানোের আইডিয়াটা বােধ করি হজরত ওমরের (রাঃ) আবিস্কার। নারীর প্রতি হজরত ওমরের (রাঃ) চিরদিনের ক্রোধ লক্ষ্য করা যায় তার পারিবারিক জীবনের অনেক ঘঠনায়। একবার হজরত হাফসাকে স্বীয় স্বামী মুহাম্মদের (দঃ) সাথে বেয়াদবী করার কারণে হজরত ওমর মেরেই ফেলতেন যদি না নবীজী তাকে বারণ করতেন। হজরত ঈয়াস ইবনে আব্দুল্লাহ্ থেকে বর্ণীত- ‘নবীজী নারীকে পেটাতে নিষেধ করেছেন বহুবার কিন্তু একদিন হজরত ওমর (রাঃ) যখন নবীজীর কাছে এসে বল্লেন যে, দেশের স্ত্রীগণ সামীর অবাধ্য হয়ে যাচ্ছে তখনই আল্লাহর রাসুল নারী পেটানাের আয়াত নাজিল করেন। সাথে-সাথে অনেক মহিলা নবীজীর পরিবারকে ঘিরে প্রতিবাদ জানান। নবীজী তাদেরকে বলেন ‘প্রতিবাদী নারী আল্লাহর অপছন্দ। কিন্তু দুঃখজনক হলেও অস্বীকার করার উপায় নেই যে মুহাম্মদের (দঃ) জীবনে দুইজন বিদ্রোহী রমণী নবীজীকে জীবনের শেষপ্রান্তে অতীষ্ঠ করে তুলেছিলেন। তাদের একজন হজরত আবু বকর তনয়া বিবি আয়েশা, আরেকজন হজরত ওমরের দুলালী হজরত হাফসা। (রাজিয়াল্লাহু তা'লা আনহুমা। আল্লাহ তাদের উভয়ের ওপর সন্তুষ্ট হউন)। উৎকৃষ্টায়া ভি-রূপায় বরায় সদৃশায়চ, অপ্রাস্তামপি তাং তসৈম কন্যাং দদ্যাদ যথাবিধি।
অর্থাৎ- কুলে আচারে উৎকৃষ্ট, স্বজাতী ও স্বরূপী বর পাইলে কন্যা বিবাহ-যােগ্য না হইলেও তাহাকে যথা-বিধানে “সম্প্রদান করিবে। (“সম্প্রদান’ কোন বস্তু বা মাল এর মালিকানা বা স্বত্বাধিকার বদল। নারী প্রথমে তার পিতার মাল এবং বিয়ের পরে তার স্বামীর মাল। বিবাহিত নারীর ওপর তার সামীর আজীবন মালিকানা থাকে। এমনকি সামীর মৃত্যুর পরেও সে তার মৃত সামীর সম্পদ থেকে যায়। বাল্যবিবাহ বিধিসম্মত কিন্তু বিধবা নারীর দ্বিতীয় বিবাহ হিন্দু-শাস্ত্রমতে মহাপাপ। )
নবী মুহাম্মদ নিজেই ছয় বৎসরের শিশু আয়েশাকে বিয়ে করে বাল্যবিবাহ জায়েজ করে গেছেন। সম্প্রদান’ ব্যাপারে হজরত আয়েশার উক্তি
‘আল্লাহর রাসুল যখন আমাকে বিয়ে করেন তখন আমার বয়স ছয়। আমার নয় বৎসর বয়সে নবীজী আমাকে তাঁর ঘরে তােলে নেন। শাওয়াল মাসের একদিন আমি আমার সঙ্গীদের সাথে খেলছিলাম। আমার মা উম্মে রুমান যখন আমার কাছে এসে চিৎকার করে ডাক দেন, আমি তখনও দোলনায় দোলছিলাম। মা আমাকে হাতে ধরে ঘরে নিয়ে যান, আমি তখন গুনগুন করে গান গেয়েছিলাম। আমি কিছুই বুজতে পারিনি, মা আমাকে দিয়ে কি করতে চান। সকালে যখন আল্লাহর রাসুল আসেন, মা আমাকে তাঁর হাতে সম্প্রদান করেণ।” (সহীহ মুসলিম শরীফ ৩৩০৯)
অন্তবিষঃ ময়া-হােতা --বহির্ভাগে মনােরমাঃ গুঞ্জাফল সমাকারা ঘােষিতঃ সর্বদৈহি।
মনু নারীকে গুঞ্জাফল ও গাভীর সাথে তুলনা করেছেন, মুহাম্মদ করেছেন সম্পদ (মাল) ও উটের সাথে। মনু বলেন- “যেমন গবাদি গর্ভে উৎপন বৎস গাে-সামীর (গাভীর স্বামী) হয়, তেমনি পর পুরুষে উৎপাদিত সন্তান উৎপাদকের হয়না ক্ষেত্রীরই হয়।”
‘তথৈবা ক্ষেত্রিণাে বীজং পরক্ষেত্রে প্রবাপিন । কুবর্বতি ক্ষেত্ৰিণামর্থংন বীজী লভতে ফলম।
যদি কোন ব্যক্তি নিজ বীজ পরক্ষেত্রে বপন করে তবে বীজ বপনকারী সে ফল ভােগের কর্তা না হয়ে ক্ষেত্ৰই ফল ভােগের কর্তা হবেন।
‘ফলন্ত নভি সন্ধায় ক্ষেত্রিণাং বীজি নাস্তথা। প্রত্যক্ষং ক্ষেত্ৰিণামর্থ্যে বীজা যযানিৰ্গরীয়সী।
নিয়ােগ প্রথায় সন্তান উৎপাদনকারী পুরুষগণের মধ্যে “এই স্ত্রীতে আমাদের সন্তান উভয়ের হবে” এমন অভিসন্ধি না থাকলে উৎপাদিত সন্তান ক্ষেত্রীরই হবে, কারণ বীজ অপেক্ষা যােনিই প্রধান। উল্লেখ্য, ‘নিয়ােগ প্রথায় স্বামীর মৃত্যুর পর বিবাহ ছাড়া দেবর অথবা অন্য পুরুষ দ্বারা সন্তান উৎপাদন করানাে বেদানুযায়ী বৈধ। একটা উদাহরণ দেয়া যাক- ‘শান্তনু রাজার পুত্র বিচিত্রবীর্য যক্ষারােগে আক্রান্ত হয়ে অপুত্রক অবস্থায় মারা যান। ফলে তার মাতা মৎস্যগন্ধা