ব্যাপারটি যখন ঘটল আমি তখন পাহাড়ের বড় পাথরের উপর থেকে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছি।
পাহাড়ের উপর ঘুরে বেড়াতে আমার খুব ভাল লাগে । যখন রুশনী নামের আমাদের এই গ্রহটা রুশকা নামের গ্রহের আড়ালে চলে যায় তখন হঠাৎ চারপাশে অন্ধকার নেমে আসে। আবছা অন্ধকারে একটি আলােকিত | স্ফটিক পাথর ফুটে বের হয়ে আসতে শুরু করে, চারিদিকে একটা নরম আলাে ছড়িয়ে পড়ে তখন কালাে আকাশের দিকে তাকিয়ে নক্ষত্রপুঞ্জকে দেখতে আমার এক ধরনের রােমাঞ্চ হয়। ঐ অসংখ্য নক্ষত্রপুঞ্জের । নানা গ্রহ উপগ্রহে আমাদের মত আরাে জীবিত প্রাণী রয়েছে ভাবতেই আমার সারা শরীরে এক ধরনের শিহরন বয়ে যায়। সেই জীবিত প্রাণীদের সাথে যদি সত্যি কোনদিন আমাদের যােগাযােগ ঘটে যায় কী বিচিত্র ব্যাপারটাই না ঘটবে । এই ধরনের কথা ভাবতে ভাবতে | আকাশের দিকে তাকিয়েছিলাম ঠিক তখন আমি আকাশ চিড়ে একট আলাের ঝলকানি ছুটে যেতে দেখলাম।
এটি আয়ােনিত বিদ্যুতের বিচ্ছুরণ নয়, এটি কোন ধূমকেতু নয়, উল্কাপাত নয়, অসম তাপের বিস্ফোরণও নয়, এটি সম্পূর্ণ নূতন একটি | ব্যাপার। আমি আগে কখনাে এরকম কিছু ঘটতে দেখি নি। তাই অবাক হয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে রইলাম। আলাের ঝলকানিটি নিচে নেমে এসে দিগন্তের অন্যপাশে মিলিয়ে গেল। | যখন আকাশে অন্ধকার আরাে গাঢ় হয়ে এল, আমি তখন দ্বিতীয়বার আলাের ঝলকানিটি দেখতে পেলাম। এবারে ঝলকানিটি দিগন্তে অদৃশ্য হয়ে গেল না সেটি বৃত্তাকারে ঘুরে এল। আমি অবাক হয়ে আকাশের | দিকে তাকিয়ে রইলাম, দেখতে পেলাম আলাের ঝলকানিটি তার বৃত্তাকার | পথ ছােট করতে করতে নিচে নেমে আসছে।
কিছুক্ষণের মাঝেই আমি আলাের ঝলকানির উৎসটি পরিস্কার দেখতে পেলাম। সাদা সূচালাে একটি জিনিস, তার পিছন থেকে লালাভ আগুনের শিখা বের হয়ে আসছে। আমি আমার মনােযােগ কেন্দ্রীভূত করতেই এক ধরনের চাপা গুমগুম শব্দ শুনতে পেলাম। জিনিসটি কি হতে পারে সেটা নিয়ে চিন্তা করার আগেই হঠাৎ করে বুঝতে পারলাম এটি নিশ্চয়ই একটি মহাকাশযান। আমাদের এই ছােট উপগ্রহটিতে ভিন্ন গ্রহ থেকে মহাকাশচারীরা নেমে আসছে। ভাল করে দেখারwww.allbdbooksঙ্কর আরাে উপরে উঠে গেলাম। অন্ধকার নেমে আসার পর ধূলিঝড়টি শুরু হতে থাকে একটু পরেই সেটা চারিদিক আরাে অন্ধকার করে ফেলবে তখন আমি আর ভাল করে দেখতে পাব না। আমি পাহাড়ের উপর থেকে দেখতে পেলাম মহাকাশযানটি প্রচণ্ড শব্দ করতে করতে নেমে আসছে, নামার জন্যে সেটি যে জায়গাটা বেছে নিয়েছে সেটি এই উপগ্রহের সবচেয়ে সমতল জায়গাগুলাের একটি।
আমি দীর্ঘ সময় হতবাক হয়ে তাকিয়ে থাকি। আমার চোখের সামনে এই উপগ্রহে একটি নূতন ইতিহাস সৃষ্টি হতে যাচ্ছে, কি আশ্চর্য ! আমি যখন পাহাড় থেকে নিচে নেমে এলাম আমার মা নরম গলায় বললেন, কোথায় ছিলি তুই ত্ৰিতুন ?
পাহাড়ের উপর। কখন অন্ধকার হয়ে গেছে ! এতক্ষণ কী করছিলি ? দেখছিলাম মা। আকাশ থেকে একটা মহাকাশযান নেমে এসেছে। কী বলছিস তুই ? মা অবাক হয়ে আমার দিকে তাকালেন, কী বলছিস ?
সত্যি মা। সাদা রংয়ের মহাকাশযান। মাথাটা সূচালাে, নিচে চারদিকে পাখার মত। যখন নিচে নেমে আসছিল কি ভয়ানক গর্জন করছিল গুমগুম করে ! পিছন থেকে কমলা রংয়ের আগুন বের হয়ে আসছিল। সেটা একটা দেখার মত দৃশ্য ছিল মা। | কোথায় নেমেছে ঐ মহাকাশযান ?
পাহাড়ের ঐ পাশে যে উপত্যকা আছে, সেখানে।। | মা তখনাে আমার কথা বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। খানিকক্ষণ অবাক হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে থেকে বললেন, খবরটা সবাইকে দিতে হবে ত্ৰিতুন। তুই যা, রুককে গিয়ে বল, এখনি সবাইকে একসাথে হতে হবে। যে যেখানে আছে সবাইকে চলে আসতে বল।।
| কিছুক্ষণের মাঝেই সবাই চলে এল। বাইরে স্বচ্ছ একটা স্ফটিককে ঘিরে আমরা সবাই গােল হয়ে বসেছি। বৃদ্ধ রুক কাঁপা গলায় বলল, তােমরা নিশ্চয়ই শুনেছ, ত্ৰিতুন খবর এনেছে পাহাড়ের ঐ পাশে উপত্যকায় একটা মহাকাশযান নেমেছে।
উপস্থিত সবাই সম্মতিসূচক একটা শব্দ করল। রুক বলল, এটা