সামান্য কিছু টাকা-পয়সা সঞ্চয় করে রাখত, যাতে দুঃসময়ে খাদ্য শস্য কিনতে পারে। প্রতিবেশী অঞ্চলে ফলন ভাল হয়ে ছিল বলে একজন সামান্য কিছু টাকা-পয়সা সঞ্চয় করে রাখত, যাতে দুঃসময়ে খাদ্য শস্য কিনতে পারে। প্রতিবেশী অঞ্চলে ফলন ভাল হয়ে ছিল বলে একজন জমিদার বেনারস থেকে চাল কিনে মালবাহী বড় নৌকায় করে এনে গঙ্গা তীরের দুর্ভিক্ষ পীড়িত মানুষের মধ্যে বিলিয়ে দিয়েছিলেন। ১৭৭০-এর আগেই গ্রামীণ বাংলায় আর নগদ অর্থ ছিল না, সব মুদ্রাই নিঃশেষ হয়ে যায়। এমনকী,দুর্ভিক্ষের চরম অবস্থায় ফটকা কারবারিরা স্বাভাবিক মূল্যের চেয়ে দু’গুণ বেশি দামে চাল বিক্রি করেছিল। এই সময় কোম্পানির কর্মচারীরাও চালের ফাটকা কারবারে প্রচুর মুনাফা লুটেছিল। মুর্শিদাবাদে কোম্পানির জনৈক কেরানি, যে সাধারণত বহুরে ২০০ পাউন্ডের বেশি সঞ্চয় করতে পারত না, অভিযােগ উঠেছিল, সে সেবছর ইংল্যান্ডে পাঠিয়েছিল ৬০০০ পাউন্ড। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এই দুর্ভিক্ষে ত্রাণের জন্য ৯০০০ পাউন্ড খরচ করেছিল। বলা বাহুল্য, এাণের জন্য বরাদ্দ এই অর্থে চাল কিনে প্রধানত বিতরণ করা হয়েছিল মুর্শিদাবাদ ও কলকাতায়। ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের এই আর্থিক বছরে কোম্পানির রাম্ব আদায় হয়েছিল ১,৪ মিলিয়ন পাউন্ড। বিহারে, যেখানে অনেক গ্রামে মােট জনবসতির চার-পঞ্চমাংক মানুষ অনাহারে মারা গিয়েছিল, সেখান থেকে ১৭৭০ সালে কোম্পানির রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ছিল চারলক্ষ পাউন্ড। কিন্তু এই বিশাল পরিমাণ রাজস্ব আদায় করা সত্ত্বেও সভনের পরিচালকরা অভিযােগ জানিয়েহিল, “এই সংগ্রহ দেখে আমরা খুবই হতাশা বােধ করছি। আশ্চর্যভাবেই ওই বছরের শেষে ফলন হল বেশ ভাল। কিন্তু সেই ফসল কাটার জন্য মানুষ জীবিত ছিল না। ১৭৭১-এর ফেব্রুয়ারি মাসে কলকাতা কাউন্সিল কোম্পানির পরিচালকদের জানালেন, গত বছরের ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ এবং এর ফলে স্ক্রন সংখ্যা হ্রাল হওয়া সত্ত্বেও বর্তমান বছরে বাংলা ও বিহারে জমা’-র অনুমিত রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। রাজস্ব আদায় যে হ্রাস পায়নি তার কারণ, পরবর্তী গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস মনে করেন, অত্যন্ত নিষ্ঠুরতার সঙ্গে পূর্বের আদায়ের মান ধরে রাখা হয়েছিল। ১৮) পরের দু'বছর ভাল ফলন হওয়াতে কোম্পানির আয় বৃদ্ধি পেয়ে চলল কারণ কোম্পানির এজেন্টরা মৃত প্রতিবেশীর বকেয়া খাজনা জীবিতদের পরিশােধ করতে বাধ্য। করে। হান্টার লিখেছেন, দেশের এই শােচনীয় দুর্গতিতেও ইংরেজ সরকার জুমির বর্ধিত রাজস্ব দাবি করে চলল। ফলে রাজস্ব সংগ্রহে যে অনিবার্যবিঘ্ন ঘটেছিল, সেকথা হাস্টার উল্লেখ করতে ভােলেননি। বীরভূমের গ্রামবাসীরা ভূমিরাজ মিটিয়ে দেওয়ার জন্য মুসলমান সেনাবাহিনীর দ্বারা নির্যাতিত হলেও এবং প্রচন্ড নির্মমতার শিকার হওয়া সত্ত্বেও রাজস্ব আদায় হয়েছিল দাবির অর্ধাংশ।১৪) | কোম্পানি যে উচ্চহারে রাজস্ব পাওয়ার আশা করেছিল তা পূরণ হওয়া ছিল কঠিন, কারণ কৃষক ও চাষ-বাস দেখার লোকের অভাবে বাংলার এক-তৃতীয়াংশ আবাদি জমি তখন আগাছা আর গালে ভাৱ গেছে। বাংলার বেশির ভাগ ভূমি উর্বর ব-দ্বীপের
Edition t
Published On 26/12/2021
Author মধুশ্রী মুখোপাধ্যায়