বৈভব নেই কিন্তু একটা প্রাণ আছে সর্বানন্দ ভবনের ভেতরের পরিবেশে। কত রকম লােকের আনাগােনা সেখানে। সব ধর্মের, সব শ্রেণির মানুষের। বরিশালের বেশির ভাগ মানুষ তাে মুসলমান আর ঐতিহাসিক কারণে তাদের অধিকাংশই তখন নিম্নবর্গের। ছেলেবেলায় তেমন সব মানুষের সাথে দিনরাত্রি ওঠাবসা মিলুর, কিশাের জীবনানন্দের । | মিলুর অসমবয়সী বন্ধু আলী মামুদ। ঋজু শরীর, লম্বা দাড়ি বার্নার্ড শয়ের মতাে চেহারা। স্ত্রী-সংসার নেই তাঁর, কোনাে নির্দিষ্ট পেশা নেই। কখনাে তিনি গাছি। গাছ থেকে নারকেল পেড়ে দেওয়া, সুপারি পেড়ে দেওয়া তার কাজ। দড়ির ফাঁদ পায়ে বেঁধে মামুদ উঠে যান উঁচু উঁচু গাছে। সুপারিবাগানের এক গাছের মাথা থেকে অন্য গাছের মাথায় লাফ দেন অবলীলায়। শীতকালে আলী মামদ বিক্রি করেন কমলালেব, গরমকালে আম। বর্ষায় তার কাজ লােকের ঘর মেরামত করে দেওয়া। সর্বানন্দ ভবনের উঠানে বসে আলী মামুদ যখন কাঁচা সুপারি থেকে পাকা সুপারি বাছেন, তখন পাশে গিয়ে বসে মিলু। মামুদ তাকে গল্প শােনান গ্রামের লােকেরা কী করে এক বাঘডাশ ধরেছে। কোনাে কোনাে দিন মামুদের সঙ্গে গ্রামে ঘুরে বেড়ায় জীবনানন্দ। দুটা নারকেল বেঁধে একটা টিউবের মতাে ভাসিয়ে আলী মামুদ বাড়ির পুকুরে সাঁতার শিখিয়েছেন মিলুকে।। | মিলুর বন্ধু রাজমিস্ত্রি মনিরুদ্দিনও। মনিরুদ্দিন একাধারে মসজিদ আর _ মন্দির দটাই বানান মনিরতদিনের সাথে ঘর বানানাে দেখতে যা চিল দে
Edition দ্বিতীয় সংস্করণ
Published On 01/06/2017
Author শাহাদুজ্জামান